সাকিব আল হাসানের ব্যাটিংয়ে জয়ের স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ।

২৪১ রান তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালোই ছিল রাসেল ডোমিঙ্গোর শিষ্যদের। ওপেনিং জুটিতে তামিম-লিটন মিলে তুলেন ৩৯ রান। কিন্তু পাঁচ ওভারের ব্যবধানে সাজঘরে ফিরেছেন দুই ওপেনারই। আউট হওয়ার আগে তামিম ২০ এবং লিটন করেন ২১ রান। তৃতীয় উইকেটে ব্যাট করতে নামা মোহাম্মদ মিঠুন করেছেন মাত্র ২ রান।

আর রান আউট হওয়ার আগে ৫ রানে ফেরেন মোসাদ্দেকও। ৭৫ রানে ৪ উইকেটে হারিয়ে চাপে পড়া বাংলাদেশ দলকে জয়ে স্বপ্ন দেখাচ্ছিলেন দলের দুই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান এবং মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। পঞ্চম উইকেটে দুজন মিলে তুলেন ৫৫ রান।

মুজারাবানির বলে আউট হওয়ার আগে ২৬ রান করেন মাহমুদউল্লাহ। মিরাজ করেন মাত্র ৬ রান। ডানহাতি অফস্পিনার মাধভেরের বল সুইপ করে সীমানার বাইরে পাঠাতে চেয়েছিলেন মিরাজ। কিন্তু মাঠের সবচেয়ে বড় দিক টার্গেট করে বিপদ ডেকে আনলেন তিনি। তার এলোমেলো শট সোজা যায় ডিয়োন মায়ার্সের হাতে।

এদিকে আপনতালে ব্যাট করতে থাকা সাকিব আল হাসান তুলে নেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৪৯তম ফিফটি। সাকিবের সাথে ছোট একটি পার্টনারশিপ করে বাংলাদেশকে আসা দেখাচ্ছিলেন আফিফ হোসেন। তবে তিনিও ইনিংস বড় করতে পারেননি। আফিফ করেন ২৩ বলে ১৫ রান।

এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ৪২.২ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৯২ রান সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ। সাকিব আল হাসান ৭১ এবং মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন ৮ রান করে অপরাজিত রয়েছেন।

হারারে ক্রিকেট গ্রাউন্ডে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন জিম্বাবুইয়ান অধিনায়ক ব্রেন্ডন টেলর। তবে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি স্বাগতিকদের।

ইনিংসের প্রথম ওভারেই স্বাগতিক দলের ওপেনার তিনাশেকে মাত্র ১ রানেই সাজঘরে পাঠিয়েছেন পেসার তাসকিন আহমেদ। আর বল হাতে নিজের প্রথম ওভারেই তাদিওয়ানাশে মারুমানিকে বোল্ড করেন মেহেদি হাসান মিরাজ। আউট হওয়ার আগে ১৩ রান করেন মারুমানি।





তৃতীয় উইকেটে ব্রেন্ডন টেলরের সঙ্গে ৪৭ রানের জুটি গড়ে উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান রেগিস চাকাভা। ব্যক্তিগত ২৬ রানে সাকিবের বলে বোল্ড আউট হন তিনি। এদিকে বাংলাদেশের জন্য ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা ব্রেন্ডর টেলর শরিফুলের বলে হিট উইকেট হন।

জিম্বাবুইয়ান অধিনায়ক ৫৭ বলে করেন ৪৬ রান। পঞ্চম উইকেটে ম্যাধেভেরেকে নিয়ে বড় জুটিই গড়তে যাচ্ছিলেন ডিওন মেয়ার্স। কিন্তু সাকিবের ঘূর্ণিতে সেটা সম্ভব হয়নি। ব্যক্তিগত ৩৪ রানে সাকিবের বলে মাহমুদউল্লাহ হাতে সহজ ক্যাচ তুলে দেন মেয়ার্স।

নিজের দ্বিতীয় স্পেলে বল হাতে রীতিমতো আগুনে গোলা ছাড়েন শরিফুল ইসলাম। নিজের করা পরপর দুই ওভারে তিনটি উইকেট তুলে দেন। এ সময় তার বলে ফেরেন জিম্বাবুয়ের একমাত্র হাফ-সেঞ্চুরিয়ান ওয়েসলি ম্যাধেভেরে(৫৬), লুক জংউই(৮) এবং ব্লেসিং মুজারাবানি(০)।

আর ৪৪ বলে ৩০ রান করে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের বলে কট বিহাইন্ড হন সিকান্দার রাজা। ৪ রানে চাতারা এবং ৭ রানে এনগারাভা অপরাজিত থাকেন। বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ চারটি উইকেট নেন শরিফুল ইসলাম। এছাড়া দুটি উইকেট নেন সাকিব আল হাসান।

বাংলাদেশ একাদশ: তামিম ইকবাল, লিটন দাস, সাকিব আল হাসান, মোহাম্মদ মিঠুন, মোসাদ্দেক হোসেন, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, আফিফ হোসেন ধ্রুব, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, মেহেদি হাসান মিরাজ, শরিফুল ইসলাম ও তাসকিন আহমেদ।





জিম্বাবুয়ে একাদশ: ওয়েসলে মাধভের, তাদিওয়ানাশে মারুমানি, ব্রেন্ডন টেলর, ডিয়ন মায়ার্স, সিকান্দার রাজা, রেগিস চাকাভা, তিনাশে কামুনহুকামুই, লুক জঙ্গি, টেন্ডাই চাতারা, ব্লেসিং মুজুরাবানি এবং রিচার্ড এনগারাভা।