ক্রিকেট বোর্ডের কারনেই অধিনায়কের দায়িত্ব ছেড়েছেন আফগানিস্তানের মোহাম্মদ নবী

নিজেদের শেষ ম্যাচে শেষ বলের রোমাঞ্চে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৪ রানে হারের মধ্যদিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শেষ করেছে আফগানিস্তান। ম্যাচ শেষে হওয়ার ঘণ্টা খানেকের মধ্যে ম্যানেজমেন্টের ওপর দায় চাপিয়ে দলটির নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন অধিনায়ক মোহাম্মদ নবী।





নেতৃত্ব থাকলেও খেলা চালিয়ে যাবেন বলেও জানান তিনি। শুক্রবার (৪ নভেম্বর) নিজের ভেরিফাইড টুইটার অ্যাকাউন্টে দায়িত্ব ছাড়ার ঘোষনা দেন নবী। নবী দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর কারণ হিসেবে টিম ম্যানেজমেন্ট ও নির্বাচকদের দিকে আঙুল তুলেন।

তিনি লিখেন, “গত একবছর আমাদের প্রস্তুতি যেমন ছিল, সেটা অধিনায়ক হিসেবে আমার কাছে বড় টুর্নামেন্টের জন্য যথেষ্ট মনে হয়নি। এছাড়া সম্প্রতি আমাদের কয়েকটি সফরে ম্যানেজমেন্ট ও নির্বাচন কমিটির সিদ্ধান্তের সঙ্গে আমি একমত ছিলাম না। যা দলের ভারসাম্যে ব্যাঘাত ঘটিয়েছে”।

অধিনায়কত্ব ছাড়ার কথা জানিয়ে নবী আরও বলেন, “যথাযথ সম্মানের সঙ্গে আমি তাৎক্ষণিকভাবে অধিনায়কত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিচ্ছি এবং আমি আমার দেশের হয়ে খেলা চালিয়ে যাবো যখন ম্যানেজমেন্ট এবং দল আমাকে চাইবে”।

“আমি প্রত্যেককেই ধন্যবাদ জানাতে চাই হৃদয়ের অন্তঃস্থল থেকে। যারা বৃষ্টি বিঘ্নিত ম্যাচেও সমর্থন দিতে এসেছিলেন। আপনাদের ভালোবাসা আমাদের জন্য বিশাল কিছু। বেঁচে থাকুক আফগানিস্তান”।

নিজেদের পারফরম্যান্স নিয়ে নবীর মন্তব্য করেন, “আমাদের বিশ্বকাপ যাত্রা শেষ। যে ফল পেয়েছি, সেটা আমাদের সমর্থক বা আমরা প্রত্যাশা করিনি। আমরা খেলোয়াড়েরাও এবারের বিশ্বকাপে আফগানিস্তান দলের পারফরম্যান্সে হতাশ”।

আফগানিস্তান এবার সরাসরি সুপার টুয়েলভে খেলেছে। এবারের বিশ্বকাপে আফগানিস্তানই একমাত্র দল যারা কোনো জয় পায়নি। পাঁচ ম্যাচের মধ্যে একটিতেও জিততে পারেনি। তিনটিতে হেরেছে, বৃষ্টির কারণে দুই ম্যাচ হয়েছে পরিত্যক্ত।





সর্বপ্রথম ২০১৩ সালে প্রথমবারের মতো আফগানিস্তানের নেতৃত্ব পেয়েছিলেন নবী। তারপর অনেকেই আফগানিস্তানকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। সর্বশেষ ২০২১ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে দ্বিতীয় মেয়াদে আফগানদের নেতৃত্বভার পান এই অলরাউন্ডার। তার অধীনে এখনও পর্যন্ত ৩৫টি টি-টোয়েন্টি খেলে ১৬টিতেই জিতেছে আফগানিস্তান।