সাকিব যে অধিনায়ক হয়েছে এটা আমি মনে করি আমাদের জন্য আশীর্বাদ : মাশরাফি বিন মুর্তজা

২০০৯ সালে টেস্ট অধিনায়ক মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার আচমকা ইনজুরিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচ চলাকালীন দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ মেলে সাকিব আল হাসানের। সেই শুরু সিরিজ জয়ে রাঙিয়েছিলেন অধিনায়ক সাকিব। সে দফায় দায়িত্ব হারানোর পর ২০১৭ সালে আবার টেস্ট অধিনায়কত্ব পান সাকিব।





২০১৮ সালে উইন্ডিজদের বিপক্ষে আবার শুরু করেন এই ক্রিকেটার। এবারও জয়ে রাঙিয়েছিলেন সাকিব। তবে চলতি বছর তৃতীয়বারের মতো টেস্ট অধিনায়কত্ব পেলেও জয় পায়নি সাকিবের দল। বরং উইন্ডিজের মাটিতে হোয়াইটওয়াশের তিক্ত স্বাদ পেতে হলো বাংলাদেশকে।

ওয়েস্ট সিরিজ থেকে বাংলাদেশ টেস্ট ক্রিকেটের নেতৃত্বে সাকিব আল হাসান। তাতে ইতিবাচক বিষয় দেখছেন মাশরাফি। তার মতে সবচেয়ে অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের হাতেই থাকা উচিত টেস্টের নেতৃত্ব। সাকিবের নেতৃত্বে টেস্টে উন্নতি করবে বাংলাদেশ এই বিশ্বাস মাশরাফির।

মাশরাফি বলেন, “প্রথমত টেস্ট ক্রিকেটে (বাংলাদেশ) কখনোই ভালো ছিল না। আমরা মাঝে হোমে কিছু ম্যাচ জিতেছিলাম, একটা উন্নতির দিকে যাচ্ছিলো। কিন্তু হঠাৎ করে আবার নিচের দিকে। টেস্টে আমরা কখনোই ধারাবাহিক ছিলাম না। যে ফরম্যাটে ধারাবাহিক সেটা হলো ওয়ানডে।’

“টেস্ট ক্রিকেটে ইতিবাচক ব্যাপার হলো সাকিব বেশ অভিজ্ঞ ক্রিকেটার। সাকিব এখন অধিনায়ক, কিন্তু রাতারাতি কিছু হওয়া সম্ভব না। সাকিব কিছু কথা বলেছে যেগুলোর গভীরতা আছে।”

‘সাকিব যে অধিনায়ক হয়েছে এটা আমি মনে করি আমাদের জন্য আশীর্বাদ। এ কারণে মনে করি টেস্ট ক্রিকেটে সবচেয়ে অভিজ্ঞ ক্রিকেটার ও পারফর্মারের হাতে অধিনায়কত্ব থাকা উচিত এবং সেটা আছে। আমি যেটা বললাম রাতারাতি কোনো কিছু চিন্তা করলে হবে না। সাকিবের হাতে গিয়েছে মানে জিতে যাবো, এটা কোনো আকস্মিক সাফল্য না। বাকি ১০ জনকেও পারফর্ম করতে হবে।’- আরও যোগ করেন মাশরাফি।

২০০৯ সালে মাশরাফি উইন্ডিজ সিরিজের মাঝে ইনজুরিতে পড়লে নেতৃত্ব পান সাকিব। আর এবার তৃতীয় দফায় অধিনায়কত্ব পেয়ে সেই ওয়েস্ট ইন্ডিজেই গেলেন তিনি। মাশরাফি চান, এই অধিনায়ককে আরও সময় দেওয়া হোক।

‘ওকে (সাকিব) সময় দিতে হবে। আমার বিশ্বাস সময় দিলে এটা আমরা কাটিয়ে উঠতে পারবো আবার। কিছুটা সময় লাগবে। কারণ আপনি অনেক বেশি পিছিয়ে গেছেন, বিশেষ করে টেস্ট ক্রিকেটে। আপনি হুট করে দলকে চাপ দিলেও তো হবে না।’- বললেন মাশরাফি।





দীর্ঘদিন ২২ গজে খেলা সাকিবের সঙ্গে খেলেছেন, তাকে কোনো বার্তা দেওয়ার প্রয়োজন নেই বলে মাশরাফি মনে করেন, “আমি আগেও বললাম সবচেয়ে অভিজ্ঞ মস্তিষ্ক যার, তাকে আমরা পেয়েছি। সুতরাং সাকিবকে বার্তা দেওয়ার কিছু নেই। সাকিব জানে কীভাবে দল পরিবর্তন করতে হবে। এর আগেও দুইবার সে অধিনায়কত্ব করেছে। আমি মনে করি সাকিব সব জানে কীভাবে সামলাতে হয়।”