১ রানের মধ্যে ৩ উইকেটে তুলে নিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিলেন খালেদ আহমেদ

সেন্ট লুসিয়ায় দুই ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় এবং শেষ টেস্টে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ২৩৪ রানে অলআউট হওয়ার পর প্রথম দিনের শেষ বিকেলে বল হাতে স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের কোনো উইকেট ফেলতে পারেননি বাংলাদেশি বোলাররা। দ্বিতীয় দিনে উইকেটের খোঁজে ফিল্ডিংয়ে নেমেছে টাইগাররা। শুরুটা খারাপ করলেও অবশেষে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। ১৩১ রানের মধ্যে তুলে নিয়েছে তিনটি উইকেট।

উইকেট নেওয়া শুরুটা করেন শরিফুল ইসলাম। দলীয় ১০০ রানের মাথায় শরিফুল তুলে নেন জন ক্যাম্পবেলের উইকেট। ৪৫ রান করে সোহানের হাতে ক্যাচ দিয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন তিনি। এর পর হাফসেঞ্চুরি তুলে দেন ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েট। তবে তাকে বেশি দূর যেতে দেননি মেহেদী হাসান মিরাজ।

দলীয় ১৩১ রানের মাথায় মিরাজের স্পিন ভেলকিতে ৫১ রান করে আউট হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন তিনি। তবে এরপর আবারো বোলিং ভেলকি দেখান ফাস্ট বোলার খালেদ আহমেদ। তুলে নেন জোড়া উইকেট। ২২ রান করা রেমন রেইফারকে বোল্ড করে প্যাভিলিয়নে ফেরেন তিনি। ওভারের শেষ বলে তিনি তুলে নেন এনক্রুমাহ বোনারের উইকেট। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ৪ উইকেটে ১৩২ রান তুলেছে উইন্ডিজ।





গতকাল প্রথম দিনে শুরুতে টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাট করার আমন্ত্রণ জানান ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধিনায়ক ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েট। লিটন দাসের ৫৪ এবং শেষের দিকে এবাদত হোসেন এবং শরিফুল ইসলামের ব্যাটিংয়ে ২৩৪ রানে অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশে। জবাবে প্রথম দিন শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সংগ্রহ করেছে বিনা উইকেটে ৬৭ রান।

দুই ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় এবং শেষ টেস্টে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ব্যাটিং বিপর্যয়েই পড়ে সফররত বাংলাদেশের। দলের এমতাবস্থায় ব্যক্তিগত অর্ধশতক পূর্ণ করে দলীয় স্কোরটা একটু বাড়িয়ে নেন টাইগার ব্যাটার লিটন কুমার দাস। আর শেষদিকে সংগ্রাম চালিয়ে যান শরিফুল-ইবাদত। ফলে সবকটি উইকটে হারিয়ে ২৩৪ রানে থেমেছে রাসেল ডমিঙ্গোর শিষ্যরা।

শুরুতে টস হেরে ব্যাট হাতে শুরুটা ভালোই ছিল সফরকারীদের। কিন্তু বেশিক্ষণ ক্রিজে থাকতে পারেননি মাহমুদুল হাসান জয়। অ্যান্ডারসন ফিলিপের করা বলে বোল্ড হওয়ার আগে ১০ রান করেন জয়।

এদিকে আপনতালেই খেলে যাচ্ছিলেন আরেক ওপেনার তামিম ইকবাল খান। এগোচ্ছিলেন অর্ধশতকের পথেই। কিন্তু প্রথম সেশনের ঠিক আগ মুহূর্তে আলযারি জোসেফের করা বলে ব্যক্তিগত ৪৬ রানে আউট হন তিনি। ৬৭ বলে খেলা ইনিংসটি নয়টি চারে সাজানো। দীর্ঘ আট বছর পর বাংলাদেশের জার্সিতে খেলতে নামা এনামুল হক বিজয়ের ব্যাট থেকে এসেছে ২৩ রান।

বিজয় আউট হওয়ার পরের ওভারেই ২৬ রানে করে আউট হন নাজমুল হোসেন শান্ত। পরের উইকেটে খেলতে নেমে সাকিব আল হাসান ফিরেছেন মাত্র ৮ রানে। আর ৭ রানে আউট হন নুরুল হাসান সোহান। অহেতুক শট খেলে ৯ রানে আউট হন মিরাজ।

এদিকে উইকেটের আসা-যাওয়ার মিছিলের মাঝেও আপনতালে খেলে যান লিটন কুমার দাস। তুলে ব্যক্তিগত অর্ধশতক। কিন্তু এরপর আর ব্যক্তিগত ইনিংসটা বড় করতে পারেননি তিনি। ৭০ বল খেলে করেছেন ৫৩ রান।নবম উইকেটে ব্যাট করতে নেমে অনেকটা টি-টোয়েন্টি ধাচে ব্যাট করতে থাকেন শরিফুল ইসলাম।





এ সময় ইবাদত হোসেনের সঙ্গে মাত্র ৩০ বলে ৩৬ রানের জুটি গড়েন তিনি। ১৭ বলে পাঁচ চারের মারে ৩৬ রান করেন শরিফুল। ১ রান করেছেন খালেদ আহমেদ। আর ৩৫ বলে ২১ রানে অপরাজিত থাকেন ইবাদত। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন আলযারি জোসেফ। এছাড়া দুটি করে উইকেট পেয়েছে জেইডেন সিলস, অ্যান্ডারসন ফিলিপ ও কাইল মেয়ার্স।