পারফরম্যান্স বিবেচনায় নরকিয়ার থেকে সবদিক দিয়েই অনেক এগিয়ে মোস্তাফিজুর রহমান।

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের এবারের আসরের প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নিয়েছে মুস্তাফিজুর রহমানের দল দিল্লি ক্যাপিটালস। গতকাল মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বিপক্ষে সহজ সুযোগ হাতছাড়া করেছে দিল্লি। যেখানে গতকাল মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বিপক্ষে জিতলেই প্লে-অফ নিশ্চিত হত দিল্লি ক্যাপিটালসের।





আইপিএলের এবারের আসরে দিল্লির হয়ে খেলেছেন বাংলাদেশের মুস্তাফিজুর রহমান। টুর্নামেন্ট উইকেট তেমন না পেলেও বল হাতে চমৎকার বোলিং করেছেন মুস্তাফিজুর রহমান। এবারের আসরে বল হাতে দিল্লির হয়ে ৮ ম্যাচ খেলেছেন মুস্তাফিজুর রহমান।

তবে দিল্লীতে মুস্তাফিজের মূল লড়াইটা হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকান পেসার অ্যানরিখ নরকিয়ার সাথে। শেষদিকে নরকিয়া একাদশে থাকার কারণে সাইড বেঞ্চে বসে থাকতে হয়েছে মোস্তাফিজুর রহমানকে। তবে টুর্নামেন্ট শেষে অন্যদের থেকে অনেক এগিয়ে রয়েছেন মুস্তাফিজুর রহমান।

সত্যিই পারফরম্যান্সের নিরিখে মুস্তাফিজকে একাদশের বাইরে রাখা হয়েছিল কি না বা রাখা হলে তা যৌক্তিক ছিল কি না এমন প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। সেই বিষয়টি পরিস্কার হতে দুই পেসারের সেই পারফরম্যান্সের তুলনা করা যাক।

পারফরম্যান্সে বিবেচনায় কোন দিক দিয়েই মুস্তাফিজের ধারে কাছে নেই অ্যানরিখ নরকিয়া। হ্যাঁ অবশ্য মুস্তাফিজের থেকে উইকেট তিনি একটি বেশি পেয়েছেন। তবে পুরো টুর্ণামেন্টে জুড়ে মুস্তাফিজের বল যে পরিমাণ ক্যাচ মিস হয়েছে যেটা ধরতে পারলে টুর্নামেন্টের সেরা উইকেট সংগ্রহকারী তালিকায় থাকতে পারতেন মুস্তাফিজুর রহমান।

দিল্লির হয়ে এবারের আসরে মোস্তাফিজ খেলেছেন ৮ ম্যাচ। ৮ ম্যাচে ৪২ ওভার বল করে ৮ উইকেট নিয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান অন্যদিকে নকিয়া খেলেছেন ৬ ম্যাচ। মোট ২২.২ ওভার বল করে নরকিয়া শিকার করেছেন ৯টি উইকেট। মুস্তাফিজ প্রতি ওভারে গড়ে ৭.৬২ রান খরচ করলেও নরকিয়া খরচ করেছেন ৯.৭১ রান করে।

কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে ১৮ রানের বিনিময়ের ৩ উইকেট নিয়েছিলেন মোস্তাফিজুর রহমান। নরকিয়ার সেরা বোলিং ফিগার চেন্নাই সুপার কিংসের বিপক্ষে, যে ম্যাচে ৩ উইকেট শিকার করতে তাকে খরচ করতে হয় ৪২ রান। পরিসংখ্যান বলছে, উইকেট শিকারের দিক থেকে নরকিয়াই এগিয়ে।





তবে মুস্তাফিজের বলে সহজ কিছু ক্যাচ হাতছাড়া না হলে কাটার মাস্টার এখানেও এগিয়ে থাকতেন। এছাড়া মুস্তাফিজ মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন ডট বল করার ক্ষেত্রেও। মুস্তাফিজ তার ডেলিভারির প্রায় ৪০ শতাংশই করেছেন ডট বল, যেখানে নরকিয়ার ডট বল তার মোট ডেলিভারির ৩৬.৫ শতাংশ।