সাকিব খেললে একাদশ থেকে বাদ পড়বে ইয়াসির, না খেললে একাদশে থাকবেন মোসাদ্দেক

শেষ পর্যন্ত করোনা ভাইরাস মুক্ত হয়েছেন সাকিব আল হাসান। যার কারণে আজ সকালে জানা গেছে চট্টগ্রাম টেস্টে খেলবেন তিনি। এদিকে আজ চট্টগ্রামে দলের সাথে বৈঠক শেষে ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন জানিয়েছেন চাইলে প্রথম টেস্ট ম্যাচে খেলতে পারবেন সাকিব আল হাসান।





প্রথম টেস্টে সাকিবের খেলার বিষয়ে পাপন আজ বলেছেন, “সাকিব যদি খেলতে চায়, অবশ্যই খেলবে। ওকে তো না করার কোনো সুযোগ নেই। সাকিবের ইচ্ছার ওপরেই নির্ভর করছে। ওর ফিটনেস দেখা হবে। অনুশীলনের পর ট্রেইনার যদি ক্লিয়ারেন্স দিয়ে দেয় তাহলে নিশ্চিতভাবেই খেলবে।”

তবে কোচ রাসেল ডমিঙ্গো জানিয়েছেন, ৬০-৭০ ভাগ ফিট হলেও খেলানো কঠিন। তিনি সাকিবকে পাওয়ার বিষয়ে বলেন, ‘এটা খুব কঠিন (৬০-৭০ ভাগ ফিট হলেও খেলানো)। টেস্ট ক্রিকেট কঠিন। খেলা এবং অনুশীলনের মধ্যে না থেকে হুট করে এসে খেলা আরো কঠিন। এর ওপরে কোভিড থেকে সেরে উঠেছে।

“এটা টি-টোয়েন্টি বা ওয়ানডে ম্যাচ নয়। এখানে প্রায় ৬ ঘণ্টা মাঠে থাকতে হয়। অনেকটা সময়, পুরো পাঁচদিনই। এসব বিষয় অবশ্যই বিবেচনায় আনতে হবে। অবশ্যই আমরা তাকে পেতে চাই। সর্বকালের অন্যতম সেরা একজন ক্রিকেটার সে।”





করোনার পরপরই টেস্ট ম্যাচ খেলা সহজ হবে না জানিয়ে আরও বলেন, ‘আমারও কোভিড হয়েছিল। আমি জানি কতটা খারাপ অভিজ্ঞতা হয় এবং শরীরে শক্তি পাওয়া যায় না। কোভিড থেকে সেরে ওঠার পর শারীরিকভাবে পুরোপুরি সুস্থ হতে সময়ের প্রয়োজন। আমাদের এসব বিবেচনায় আনতে হবে।

“নিশ্চিতভাবেই তার ফিটনেস পরীক্ষা করতে হবে। কোভিড থেকে সেরে উঠেছে মাত্র এবং খুব বেশি ক্রিকেট কিন্তু খেলেনি। ও অবশ্যই আমাদের জন্য বড় খেলোয়াড়, যে দলে ভারসাম্য নিয়ে আসে”।

“তাকে আগামীকাল আমরা দেখব। দুই তিন-সপ্তাহেরও বেশি সময় হয়ে গেছে ও ব্যাটিং বা বোলিং কিছু করেনি। হঠাৎ করে এসে পাঁচ দিনের টেস্ট ম্যাচ খেলা কঠিন এবং পারিপার্শ্বিক অনেক কিছু চিন্তা করতে হবে। আমরা তাকে আগামীকাল পরীক্ষা করে দেখব।’





‘যে কোনো দিনেই যে কেউ ফুল ফিট সাকিবকে তার দলে পেতে চাইবে। ৫০ বা ৬০ ভাগ ফিট একজন খেলোয়াড়কে টেস্ট ম্যাচ খেলানো কঠিন। পারফর্ম করার সুযোগ দেওয়ার জন্য একজন খেলোয়াড়কে পুরোপুরি ফিট হতে হবে।’- আরও যোগ করেন ডমিঙ্গো।

ডমিঙ্গো বলেছেন, ‘বোলিং করতে পারে এমন কাউকে আমাদের বিবেচনা করতে হবে। এটা আমাদের জন্যও চ্যালেঞ্জিং। যেমন আমাদের ইয়াসির আলী রাব্বী আছে। যে কিনা দুর্দান্ত পারফর্ম করছে। কিন্তু আমাদের এমন কাউকে প্রয়োজন যে কিনা ১৫-২০ ওভার বোলিং করতে পারে।’

প্রধান কোচের বিবেচনায় আছে একাধিক নাম। মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, মুমিনুল হক ও নাজমুল হোসেন শান্ত। মুমিনুল ও শান্ত একাদশে থাকবেন। কিন্তু তাদের থেকে খুব বেশি বোলিং আশা করছেন না ডমিঙ্গো। বাদ থাকেন কেবল মোসাদ্দেক। তাকে নিয়েই রণ কৌশল সাজাচ্ছেন প্রোটিয়া কোচ।

‘মুমিনুল, আমি নিশ্চিত না যে ও ১০-১৫ ওভার বোলিং করতে পারে। শান্তও বোলিং করে। কিন্তু ৬-৭ ওভারের বেশি নয়। মোসাদ্দেক আমাদের নির্বাচনের ভাবনায় আছে। সে বোলিং করতে পারে। সাকিব খেলতে না পারলে মোসাদ্দেক খেলার জন্য বিবেচনায় আছে।’





৬-৭ পজিশনে একজন অলরাউন্ডারের খোঁজে আছেন ডমিঙ্গো। এমন কাউকে খুঁজে পাচ্ছেন না যে কিনা সাকিবের অভাব পূরণ করতে পারবেন। আক্ষেপ করেই তিনি বলেছেন, ‘আমরা শেষ দুই বছরই ৬-৭ নম্বরে ব্যাটিং এবং ১০-১৫ ওভার বোলিং করতে পারে এমন কাউকে খুঁজছি। সাকিবের অনুপস্থিতিতে আমরা এখনও এমন কাউকে খুঁজছি। সাকিব থাকলে কাজটা সহজ। কিন্তু সাকিবকে খুব বেশি সময় পাওয়া যায় না।’