সাইফ হাসানের ফিফটি এবং ফরহাদ রেজার বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে নাটকীয় জয় তুলে নিল দোলেশ্বর

মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের শাহিনপুকুরের বিপক্ষে ৪ উইকেটে জয় তুলে নিয়েছে দোলেশ্বর। চতুর্থ রাউন্ডে আগে ব্যাটিং করে শাইনপুকুর ৭ উইকেটে ১৬২ রান তোলে। জবাবে শেষ ওভারে ২ বল হাতে রেখে ৪ উইকেটে জয় পায় দোলেশ্বর। লিগে ৪ ম্যাচে এটি তাদের তৃতীয় জয়।





১৬৩ রান তাড়া করে জয়ের জন্য শেষ ওভারে ১২ রান দরকার ছিল প্রাইম দোলেশ্বরের। উইকেটে তখন নতুন ব্যাটসম্যান শরিফ উল্লাহ ও ফরহাদ রেজা। বোলার পেসার সুমন খান।

প্রথম বলে ১ রান নিয়ে অধিনায়ক ফরহাদকে স্ট্রাইক দেন শরিফ উল্লাহ। ঘরোয়া ক্রিকেটের নিয়মিত পারফর্মার ফরহাদ এ ধরণের পরিস্থিতিতে এর আগে অনেকবার পড়েছেন। দলকে জিতিয়েছেন। সেই অভিজ্ঞতা আরও একবার কাজে লাগলেন ডানহাতি ব্যাটসম্যান।

উইকেট ঢেকে সুমন খানকে বিভ্রান্ত করলেন। বোলারের পরিকল্পনা কিছুটা পাল্টে গেল। দ্বিতীয় বল লেংন্থে পেয়ে লং অফ দিয়ে ছক্কা। পরের বল স্কয়ার লেগ দিয়ে বাউন্ডারিতে। দুই বলেই চলে আসে ১০ রান। পরের বল বাউন্সার দিলেও ফরহাদ ঠিকঠাক মতো টাইমিং করে ১ রান নিয়ে নিলেন। তাতে শাইনপুকুরের বিপক্ষে ৪ উইকেটের জন্য নিশ্চিত করে দোলেশ্বর।

১১ বলে ২ চার ও ২ ছক্কায় ২৭ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে ফরহাদ দলের জয়ের নায়ক। তবে লক্ষ্য তাড়ায় তাদের ভালো শুরু এনে দিয়েছিলেন সাইফ হাসান। দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান ইমরান উজ জামান (৮) ও তৌফিক খান (৮) বেশিদূর যেতে পারেননি।

তিনে নেমে সাইফ ৩৫ বলে ৩ চার ও ৪ ছক্কায় ৫০ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন। তার ব্যাট থেকে প্রথম ছক্কাটি আসে সুমন খানের বলে। এক পা সরিয়ে লং অফ দিয়ে সীমানার বাইরে পাঠান। পরবর্তীতে দুই বাঁহাতি স্পিনার তানবীর ও মুরাদ খানকে স্লগ সুইপে ছক্কা হাঁকান। স্পিনার রবিকে পুল করে যে ছক্কা হাঁকান তা যায় ড্রেসিংরুমের গ্যালারিতে।

ফজলে মাহমুদের শুরুটা মন্থর হলেও উইকেটে থিতু হয়ে পুষিয়ে দেন। ৩৩ বলে ৬ চার ও ১ ছক্কায় বাঁহাতি ব্যাটসম্যান ৪১ রান করেন। ছক্কা উড়াতে গিয়ে লং অফে ক্যাচ দেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। এরপর শামীমের ১৬ বলে ২২ ও ফরহাদের শেষ ঝড়ে প্রাইম দোলেশ্বর লিগের তৃতীয় জয় নিশ্চিত করে।





এর আগে শাইনপুকুরের হয়ে সর্বোচ্চ ৪৪ রান করেন মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন। ৩২ বলে ৩ চার ও ২ ছক্কায় ৪৪ রান করেন ডানহাতি ব্যাটসম্যান। এছাড়া সাব্বির হোসেন ৩৬, রবিউল ইসলাম রবি ৩৪ ও তানজিদ হাসান ২৫ রান করেন। বল হাতে ফরহাদ ৪৮ রানে পেয়েছেন ১ উইকেট। ২টি করে উইকেট নেন শামীম ও রেজাউর।