অবিশ্বাস্য অকল্পনীয়। শেষ পাঁচ বলে চারটি ছক্কা হাঁকিয়ে অবিশ্বাস্যভাবে ম্যাচে জেতালেন আরিফুল হক।

বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় ম্যাচে ফরচুন বরিশালকে ৪ উইকেটে হারিয়েছে জেমকন খুলনা। আগে ব্যাট করে খুলনা বিপক্ষে ১৫২ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় বরিশাল। জবাবে ব্যাট করতে নেমে শেষ ওভারে আরিফুল হকের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে এক বল হাতে রেখেই জয় তুলে নেয় খুলনা।

বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপের দ্বিতীয় ম্যাচে টস জিতে আগে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন খুলনার অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের প্রথম বলেই মেহেদি হাসান মিরাজের উইকেট হারায় বরিশাল। শফিউলের লেগস্টাম্প লাইনের ডেলিভারি লেগসাইডে ঠেলতে গিয়ে আকাশে তুলে দেন মিরাজ, ফিরতি ক্যাচ লুফে নিয়ে তার বিদায়ঘণ্টা বাজান শফিউল।

উইকেটে আসে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলতে থাকেন পারভেজ হোসেন ইমন।। অন্যপ্রান্তে সতর্ক সাবধানী ছিলেন অধিনায়ক তামিম ইকবাল। যদিও বেশিদূর যেতে পারেননি বরিশাল অধিনায়ক।

প্রথম পাওয়ার প্লে’র শেষ বলে মিডঅফে ইমরুলের হাতে ক্যাচ তুলে দেন ১৫ বলে ১৫ রান করা তামিম।হতাশ করেন আফিফ হোসেন ধ্রুব। দীর্ঘ ৪০৯ দিন পরে ম্যাচে ফেরা সাকিব আল হাসানের লেগস্টাম্পের বাইরের এক ডেলিভারি সজোরে হাঁকিয়ে সীমানা ছাড়া করতে পারেননি আফিফ, ধরা পড়ে যান ডিপ স্কয়ার লেগে দাঁড়ানো জহুরুল অমির হাতে।

আউট হওয়ার আগে ৩ বলে করেন ২ রান। আফিফ ফিরে গেলেও অপরপ্রান্তে অবিচল ছিলেন বিশ্বজয়ী যুবাদলের ওপেনার পারভেজ ইমন। চতুর্থ উইকেটে পারভেজ ইমন ও তৌহিদ হৃদয় যোগ করেন ৩২ রান। দলীয় ৮১ রানের সময় সাজঘরে ফেরেন ইমন।

যেখানে তার একার সংগ্রহই ছিল ৫১ রান; ৪১ বলের ইনিংসটিতে ২ চারের সঙ্গে ৪টি ছক্কা হাঁকান বাঁহাতি এ ওপেনার। বরিশালের পরেরটুকু টেনে নেন তৌহিদ হৃদয়, মাহিদুল অঙ্কনরা। প্রেসিডেন্টস কাপের হিরো ইরফান শুক্কুর আউট হন ১১ বলে ১১ রান করে।





তবে মিনি ঝড় তোলেন উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন, তিন ছয়ের মারে ১০ বলে খেলেন ২১ রানের ক্যামিও ইনিংস। আরেকপ্রান্ত আগলে রাখা তৌহিদের ব্যাট থেকে আসে ২৫ বলে ২৭ রান। ইনিংসের ১৯তম ওভারে চার বলের ব্যবধানে আমিনুল বিপ্লব, তৌহিদ হৃদয় ও সুমন খানকে ফেরান শহীদুল। তখন মনে হচ্ছিল দেড়শও হবে না বরিশালের সংগ্রহ।

কিন্তু শেষ ওভারে ব্যাট হাতে চমক দেখান তাসকিন আহমেদ। একটি করে চার ও ছয় হাঁকিয়ে ৫ বলে করেন ১২ রান। যা বরিশালকে এনে দিয়েছে ১৫২ রানের লড়াকু সংগ্রহ। খুলনার পক্ষে বল হাতে ৪ ওভারে মাত্র ১৭ রান খরচায় ৪ উইকেট নিয়েছেন শহীদুল।

এছাড়া ২টি করে উইকেট গেছে শফিউল ইসলাম ও হাসান মাহমুদের ঝুলিতে। দীর্ঘদিন পর ফেরা সাকিব ৩ ওভারে ১৮ রানের বিনিময়ে নিয়েছেন ১টি উইকেট।

১৫৩ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে জেমকন খুলনা। ইনিংসের প্রথম ওভারেই এসে জোড়া উইকেট তুলে নেন ফাস্ট বোলার তাসকিন আহমেদ। ইনিংসের দ্বিতীয় বলে ৫ রান করা আনামুল হক বিজয়কে প্যাভিলিয়নে ফেরান তাসকিন। এরপরেই তুলে নেন আরেক ওপেনার ইমরুল কায়েসের উইকেট।

শূন্য রানে প্যাভিলিয়নে ফেরেন ইমরুল কায়েস। দীর্ঘদিন পর ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা ভালই করেছিলেন সাকিব আল হাসান। কিন্তু ইনিংসে বড় করতে পারেননি তিনি। ১৬ বলে তিনটি চারের সাহায্যে ১৭ রান করা মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের আউটের পরই প্যাভিলিয়নে ফিরে যান সাকিব আল হাসান।

মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের উইকেট তুলে নেন মেহেদী হাসান মিরাজ। অন্য প্রান্তে দীর্ঘদিন পর দলে ফিরে মাত্র ১৫ রান করেই সুমন খানের বলে আউট হন সাকিব আল হাসান। ১৩ বলে দুটি চারের সাহায্যে ১৫ রান করেন সাকিব। ব্যাটিংয়ে নেমে খুলনাকে জয়ের আশা দেখাচ্ছিলেন ব্যাটসম্যান জহিরুল ইসলাম অমি।

আরিফুল হককে সাথে নিয়ে ৪২ রানের পার্টনারশিপ গড়ে তোলেন জহুরুল ইসলাম অমি। দলীয় ৭৮ রানের মাথায় কামরুল ইসলাম রাব্বির বলে আউট হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন অমি। আউট হওয়ার আগে ২৬ বলে তিনটি চার এবং একটি ছক্কায় সাহায্যে ৩১ রান করেন তিনি।

তবে খেলা জমিয়ে দেন আরিফুল হক এবং শামীম হোসেন। গুপ্তপূর্ণ সময়ে এই দুইজনের ৪৪ রানের পার্টনারশিপ ভাঙ্গেন সুমন খান। ১৮ বলে তিনটি চার এবং একটি ছক্কায় সাহায্যে ২৬ রান করে প্যাভিলিয়নে ফেরেন শামীম হোসেন। তবে নাটক তখন অনেক বাকি। শেষ ওভারে জয়ের জন্য খুলনার প্রয়োজন ছিল ২২ রানের।





বোলিংয়ে আসেন মেহেদী হাসান মিরাজ। মিরাজের প্রথম পাঁচ বলে চারটি ছক্কা হাঁকিয়ে অবিশ্বাস্য ভাবে ম্যাচ জেতান আরিফুল হক। ৩৪ বলে দুই টিচার এবং চারটি ছক্কা সাহায্যে ৪৮ রান করে অপরাজিত থাকেন আরিফুল হক। তাসকিন আহমেদ এবং সুমন খান দুটি করে উইকেট লাভ করেন।